প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Mymensingh News
Mymensingh News মাসকান্দা ময়মনসিংহ সদর
01913971584 | <div>rashedmahmud7689@gmail.com</div><div><br></div>
রাজনীতি

কিনে জিততে না পারলে বিক্রি করে লাভ করা যায় না: মাহমুদুন্নবী সোহাগ

ঢাকা শহরের উত্তরে গাজীপুরের একটি রাজনৈতিক সমাবেশে স্বাধীন প্রার্থি মাহমুদুন্নবী সোহাগের উক্তি সারা দেশের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তিনি সরাসরি বলেছিল
প্রতিবেদক: রাশেদ মাহমুদ প্রকাশ: Sep 13, 2026 প্রিন্ট: 22 Oct 2026, 06:10 AM
কিনে জিততে না পারলে বিক্রি করে লাভ করা যায় না: মাহমুদুন্নবী সোহাগ

ঢাকা শহরের উত্তরে গাজীপুরের একটি রাজনৈতিক সমাবেশে স্বাধীন প্রার্থি মাহমুদুন্নবী সোহাগের উক্তি সারা দেশের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তিনি সরাসরি বলেছিলেন, “কিনে জিততে না পারলে বিক্রি করে লাভ করা যায় না,” যা ভোট ক্রয় ও বিক্রয় সংক্রান্ত প্রথার কঠোর সমালোচনা হিসেবে ধরা পড়েছে। সমাবেশে উপস্থিত হাজারো সমর্থক ও মিডিয়া কর্মী এই বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রভাব লক্ষ্য করে, কারণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অশুভ অর্থের প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারী নীতি ও আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা পুনরায় উন্মোচিত হয়েছে। সোহাগের এই মন্তব্যের পরেই সমাবেশের পরিবেশে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়, এবং উপস্থিতদের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়।

বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশে ভোট ক্রয়‑বিক্রয় একটি গোপন কিন্তু ব্যাপক প্রথা হিসেবে রয়ে এসেছে। পূর্ববর্তী নির্বাচনে বহু প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলকে এই প্রথার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতাকে ক্ষুণ্ণ করেছে। বিশেষত ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভোট ক্রয় সংক্রান্ত অভিযোগের সংখ্যা রেকর্ড উচ্চে পৌঁছেছিল, এবং তা সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবের কারণে জনসাধারণের আস্থা হ্রাস পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মাহমুদুন্নবীর উক্তি একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা যেতে পারে, যা ভোটারদের স্বার্থ রক্ষার জন্য নৈতিক ও আইনি কাঠামোর পুনর্গঠন দাবি করে।

মাহমুদুন্নবীর মন্তব্যের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠন ও সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। বিরোধী দলগুলোর নেতারা এই উক্তিকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করে, তবে একই সঙ্গে ভোট ক্রয়‑বিক্রয় বন্ধের জন্য কঠোর আইন প্রণয়নের আহ্বান জানায়। স্বচ্ছতা সংস্থা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, “যদি প্রার্থীরা সত্যিই ন্যায্য প্রতিযোগিতা করতে চায়, তবে ভোট ক্রয়‑বিক্রয়কে দমন করা অপরিহার্য।” সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এই মন্তব্যের প্রতি ইতিবাচক সাড়া দেখা যায়; তারা আশা প্রকাশ করেন যে ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও ন্যায্য হবে।

এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সংকেত দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে ভোট ক্রয়‑বিক্রয় সংক্রান্ত অভিযোগের জন্য একটি বিশেষ হটলাইন চালু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি আরোপের নীতি ঘোষণা করেছে। পুলিশ বিভাগও নির্বাচনী এলাকার নজরদারি বৃদ্ধি করেছে, এবং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের ওপর তদারকি শক্তিশালী করেছে। ভবিষ্যতে ভোট ক্রয়‑বিক্রয় দমন করতে আইনি কাঠামোর পাশাপাশি রাজনৈতিক সংস্কার ও নাগরিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হবে, যাতে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সত্যিকারের জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী পরিচালিত হতে পারে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Mymensingh News